চিরজনমের বেদনা
চিরজনমের বেদনা, ওহে চিরজীবনের সাধনা৷ তোমার আগুন উঠক হে জ্বলে’, কৃপা করিয়ো না দুর্ব্বল বলে’, যত তাপ পাই সহিবারে চাই, পুড়ে হোক ছাই বাসনা অমোঘ যে ডাক সেই ডাক দাও আর দেরি কেন মিছে? যে আছে বাঁধন বক্ষ জড়ায়ে ছিড়ে পড়ে যাক...
Share your poems|
Find readers who feel them. Earn from every read and every gift.
Publish poems, stories and essays in your own language. Line breaks stay exactly as you wrote them.
Readers react, comment, follow and share. Climb the weekly leaderboard.
Every unique read earns coins, and readers can send you gifts. Withdraw your earnings anytime.
চিরজনমের বেদনা, ওহে চিরজীবনের সাধনা৷ তোমার আগুন উঠক হে জ্বলে’, কৃপা করিয়ো না দুর্ব্বল বলে’, যত তাপ পাই সহিবারে চাই, পুড়ে হোক ছাই বাসনা অমোঘ যে ডাক সেই ডাক দাও আর দেরি কেন মিছে? যে আছে বাঁধন বক্ষ জড়ায়ে ছিড়ে পড়ে যাক...
খুঁজে তারে মর মিছে—পাড়াগাঁর পথে তারে পাবে নাকো আর; রয়েছে অনেক কাক এ-উঠানে—তব, সেই ক্লান্ত দাঁড়কাক নাই আর;—অনেক বছর আগে আমে জামে হৃষ্ট এক ঝাঁক দাঁড়কাক দেখা যেত দিন রাত,—সে আমার ছেলেবেলাকার কবেকার কথা সব; আসিবে না পৃথি...
শুধু বিঘে দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সবি গেছে ঋণে। বাবু বলিলেন “বুঝেছ উপেন, এ জমি লইব কিনে।” কহিলাম আমি “তুমি ভূস্বামী, ভূমির অন্ত নাই। চেয়ে দেখ মোর আছে বড়জোর মরিবার মত ঠাঁই।” শুনি রাজা কহে “বাপু, জানত হে, করেছি বাগানখানা, প...
হঠাৎ দেশে উঠল আওয়াজ—“হো-হো, হো-হো, হো-হো” চমকে সবাই তাকিয়ে দেখে-সিপাহী বিদ্রোহ! আগুন হয়ে সারাটা দেশ ফেটে পড়ল রাগে, ছেলে বুড়ো জেগে উঠল নব্বই সন আগে; একশো বছর গোলামিতে সবাই তখন ক্ষিপ্ত, বিদেশীদের রক্ত পেলে তবেই হবে তৃ...
যখন গগনতলে আঁধারের দ্বার গেল খুলি সোনার সংগীতে উষা চয়ন করিল তারাগুলি। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
আসন্ন আঁধারে নিশুতি রাতের বুকে গলানো আকাশ ঝরে দুনিয়ায় ক্লাস্তি আজ কোথা? নিঃশব্দে তিমির স্রোত বিরক্ত-বিস্বাদে প্রগল্ভ আলোর বুকে ফিরে যেতে চায়। —তবে কেন কাঁপে ভীরু বুক? স্বেদ-সিক্ত ললাটের শেষ বিন্দুটুকু প্রখর আলোর সী...
আর আমায় আমি নিজের শিরে বইব না। আর নিজের দ্বারে কাঙাল হয়ে রইব না। এই বোঝা তোমার পায়ে ফেলে বেরিয়ে পড়ব অবহেলে, কোনো খবর রাখব্ না ওর কোন কথাই কইব না। আমায় আমি নিজের শিরে বইব না। বাসনা মোর যারেই পরশ করে সে, আলোটি তার নি...
দরদালানের ভিড়—পৃথিবীর শেষে যেইখানে প’ড়ে আছে– শব্দহীন— ভাঙা— সেইখানে উঁচু-উঁচু হরিতকী গাছের পিছনে হেমন্তের বিকেলের সূর্য গোল— রাঙা— চুপে-চুপে ভুলে যায়— জ্যোৎস্নায়। পিপুলের গাছে ব’সে পেঁচা শুধু একা চেয়ে দ্যাখে; সোনার...
কালি মধু যামনীতে জ্যোৎস্না নিশীথে কুঞ্জকাননে সুখে ফেনিলোচ্ছ্বল যৌবন সুরা ধরেছি তোমার মুখে। তুমি চেয়ে মোর আঁখিপরে ধীরে পাত্র লুয়েছ করে, হেসে করিয়াছ পান চুম্বনভরা সরস বিম্বাধরে, কালি মধু যামিনীতে জ্যোৎস্না নিশীথে মধুর আ...
গভীর হাওয়ার রাত ছিলো কাল— অসংখ্য নক্ষত্রের রাত; সারা রাত বিস্তীর্ণ হাওয়া আমার মশারিতে খেলেছে; মশারিটা ফুলে উঠেছে কখনো মৌসুমী সমুদ্রের পেটের মতো, কখনো বিছানা ছিঁড়ে নক্ষত্রের দিকে উড়ে যেতে চেয়েছে; এক-একবার মনে হচ্ছিলো...
মেঠো চাঁদ মেঠো চাঁদ রয়েছে তাকায়ে আমার মুখের দিকে, ডাইনে আর বাঁয়ে পোড়ো জমি—খড়—নাডা—মাঠের ফাটল, শিশিরের জল। মেঠো চাঁদ—কাস্তের মতো বাঁকা, চোখা— চেয়ে আছে; এমনি সে তাকায়েছে কতো রাত—নাই লেখা-জোখা। মেঠো চাঁদ বলে: ‘আকাশের...
যাত্রী আমি ওরে। পারবেনা কেউ রাখতে আমায় ধরে। দুঃখসুখের বাঁধন সবই মিছে, বাঁধা এ ঘর রইবে কোথায় পিছে, বিষয়বোঝা টানে আমায় নীচে, ছিন্ন হয়ে ছড়িয়ে যাবে পড়ে। যাত্রী আমি ওরে। চলতে পথে গান গাহি প্রাণ ভরে। দেহ-দুর্গে খুলবে স...
তিলোত্তমা সম্ভব। (পুনর্লিখিত অংশ) মধুসূদন “তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য আদ্যন্ত সংশোধিত করিবার…মানস করিয়াছিলেন; কিন্তু সময়াভাবে.. শেষ করিতে পারেন নাই, … কিয়দংশ মাত্র লিখিয়া ক্ষান্ত হইয়াছেন।” (‘চতুর্দ্দশপদী কবিতাবলি’ ১ম সংস্...
সুবর্ণ বিহঙ্গী যথা, আঙ্গরে বিস্তারি পাখা,—শত্রু-ধনু-কান্তি আভায় যাহার মলিন,—যতনে ধনী শিখায় শাবকে উড়িতে, হে জগদম্বে, অম্বর-প্রদেশে;— দাসেরে করিয়া সঙ্গে রঙ্গে আজি তুমি ভ্রমিয়াছ নানা স্থানে; কাতর সে এবে, কুলায়ে লয়ে ত...
হেথা তুরাসাহ সহ ভীম প্রভঞ্জন— বায়ুকুল-ঈশ্বর,—প্রচেতাঃ পরন্তপ, দণ্ডধর মহারথী—তপন-তনয়— যক্ষদল-পতি দেব অলকার নাথ, সুরসেনানী শূরেন্দ্র,—প্রবেশ করিলা ব্রহ্মপুরী। এড়াইয়া কাঞ্চন-তোরণ হিরণ্ময়, মৃদুগতি চলিলা সকলে, পদ্মাসনে প...
Get the Kothakoli app
Free on Android