কচি লেবুপাতার মতো নরম সবুজ আলোয় পৃথিবী ভ’রে গিয়েছে এই ভোরের বেলা; কাঁচা বাতাবীর মতো সবুজ ঘাস— তেম্নি সুঘ্রাণ— হরিণেরা দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে নিচ্ছে। আমারো ইচ্ছা করে এই ঘাসের ঘ্রাণ হরিৎ মদের মতো গেলাসে-গেলাসে পান করি, এই ঘাস...
একদিন মনে হ’তো জলের মতন তুমি। সকালবেলার রোদে তোমর মুখের থেকে বিভা— অথবা দুপুরবেলা— বিকেলের আসন্ন আলোয়— চেয়ে আছে— চ’লে যায়— জলের প্রতিভা। মনে হ’তো তীরের উপরে ব’সে থেকে। আবিষ্ট পুকুর থেকে সিঙাড়ার ফল কেউ-কেউ তুলে নিয়ে...
হে বন্ধু, প্রসন্ন হও, দূর করো ক্রোধ। তোমাদের সাথে মোর বৃথা এ বিরোধ। আমি চলিবারে চাই যেই পথ বাহি সেথা কারো তরে কিছু স্থানাভাব নাহি। সপ্তলোক সেই পথে চলে পাশে পাশে, তবু তার অন্ত নাই মহান আকাশে। তোমার ঐশ্বর্যরাশি গৃহভিত্তি-ম...
৭৮ এ কথা স্মরণে রাখা কেন গো কঠিন, তুমি আছ সব চেয়ে, আছ নিশিদিন, আছ প্রতি ক্ষণে— আছ দূরে, আছ কাছে, যাহা-কিছু আছে, তুমি আছ ব’লে আছে। যেমনি প্রবেশ আমি করি লোকালয়ে, যখনি মানুষ আসে স্তুতিনিন্দা লয়ে— লয়ে রাগ, লয়ে...
বিধাতা যেদিন মোর মন করিলা সৃজন বহু কক্ষে ভাগ করা হর্ম্ম্যের মতন শুধু তা’র বাহিরের ঘরে প্রস্তুত রহিল সজ্জা নানা-মতো অতিথির তরে; নীরব নির্জ্জন অন্তঃপুরে তালা তা’র বন্ধ করি’ চাবিখানি ফেলি’ দিলা দূরে। মাঝে মাঝে পান্থ এসে দাঁ...
তোমাকে পাঠালুম আমার লেখা, এক-বই-ভরা কবিতা। তারা সবাই ঘেঁষাঘেঁষি দেখা দিল একই সঙ্গে এক খাঁচায়। কাজেই আর সমস্ত পাবে, কেবল পাবে না তাদের মাঝখানের ফাঁকগুলোকে। যে অবকাশের নীল আকাশের আসরে একদিন নামল এসে কবিতা,— সেইটেই পড়ে রই...
বিদায় নিয়ে চলে আসবার বেলা বললেম তাকে, “ভারতের একজন নারী বলেছিলেন একদিন,— উপকরণ চান না তিনি, তিনি চান অমৃত। এই তো নারীর পণ, তুমি কী বলো।” অমিয়া হাসল একটু বিরস হাসি; বললে, “এ কি উপদেশ।” আমি বললেম তার হাত চেপে ধরে, “ভালো...
পাখি সব করে রব, রাত্রি শেষ ঘোষণা চৌদিকে, ভোরের কাকলি শুনি; অন্ধকার হয়ে আসে ফিকে, আমার ঘরেও রুদ্ধ অন্ধকার, ষ্পস্ট নয় আলো, পাখিরা ভোরের বার্তা অকস্মাৎ আমাকে শোনালো। স্বপ্ন ভেঙে জেগে উঠি, অন্ধকারে খাড়া করি কান- পাখিদের ম...
কলকাতায় শান্তি নেই। রক্তের কলঙ্ক ডাকে মধ্যরাত্রে প্রতিটি সন্ধ্যায়। হৃৎস্পন্দনধ্বনি দ্রুত হয়: মূর্ছিত শহর। এখন গ্রামের মতো সন্ধ্যা হলে জনহীন নগরের পথ; স্তম্ভিত আলোকস্তম্ভ আলো দেয় নিতান্ত সভয়ে। কোথায় দোকানপাট? কই সেই...
একটি লোকের একটা ষাঁড়, একটা গাধা আর একটা ছাগল ছিল। লোকটি বেজায় অত্যাচার করত তাদের ওপর। ষাঁড়কে দিয়ে ঘানি টানাত, গাধা দিয়ে মাল বওয়াত আর ছাগলের সবটুকু দুধ দুয়ে নিয়ে বাচ্চাদের কেটে কেটে খেত, কিন্তু তাদের কিছুই প্রায়...
সহর ছাড়িয়ে যে-রাস্তাটা রেল-স্টেশনের দিকে চলে গেছে সেই রাস্তার ওপরে একটা তেঁতুল গাছের তলায় লোকটিকে প্রতিদিন একভাবে দেখা যায়—যেমন দেখা যেতে পাঁচ বছর আগেও। কোনো বিপর্যয়ই লোকটিকে স্থানচ্যুত করতে পারে নি যতদূর জানা যায়।...