সুহৃদ্বরেষু
কাব্যকে জানিতে হয়, দৃষ্টিদোষে নতুবা পণ্ডিত শব্দের ঝঙ্কার শুধু যাহা ক্ষীণ জ্ঞানের অতীত। রাতকানা দেখে শুধু দিবসের আলোকপ্রকাশ, তার কাছে অর্থহীন রাত্রিকার গভীর আকাশ। মানুষ কাব্যের শ্রষ্টা, কাব্য কবি করে না সৃজন, কাব্যের নতু...
Share your poems|
Find readers who feel them. Earn from every read and every gift.
Publish poems, stories and essays in your own language. Line breaks stay exactly as you wrote them.
Readers react, comment, follow and share. Climb the weekly leaderboard.
Every unique read earns coins, and readers can send you gifts. Withdraw your earnings anytime.
কাব্যকে জানিতে হয়, দৃষ্টিদোষে নতুবা পণ্ডিত শব্দের ঝঙ্কার শুধু যাহা ক্ষীণ জ্ঞানের অতীত। রাতকানা দেখে শুধু দিবসের আলোকপ্রকাশ, তার কাছে অর্থহীন রাত্রিকার গভীর আকাশ। মানুষ কাব্যের শ্রষ্টা, কাব্য কবি করে না সৃজন, কাব্যের নতু...
হে রাজেন্দ্র, তোমা-কাছে নত হতে গেলে যে উর্ধ্বে উঠিতে হয় সেথা বাহু মেলে লহো ডাকি সুদুর্গম বন্ধুর কঠিন শৈলপথে— অগ্রসর করো প্রতিদিন, যে মহান পথে তব বরপুত্রগণ গিয়াছেন পদে পদে করিয়া অর্জন মরণ-অধিক দুঃখ। ওগো অন্তর্যামী, অন্...
সেদিনে আপদ আমার যাবে কেটে পুলকে হৃদয় যেদিন পড়বে ফেটে। তখন তোমার গন্ধ তোমার মধু আপনি বাহির হবে বঁধু হে, তারে আমার ব’লে ছলে বলে কে বলো আর রাখবে এঁটে॥ আমারে নিখিল ভুবন দেখছে চেয়ে রাত্রিদিবা। আমি কি জানি নে তার অর্থ কী বা...
আপনি ফুল লুকায়ে বনছায়ে গন্ধ তার ঢালে দখিনবায়ে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
নববর্ষ এল আজি দুর্যোগের ঘন অন্ধকারে; আনে নি আশার বাণী, দেবে না সে করুণ প্রশ্রয়; প্রতিকূল ভাগ্য আসে হিংস্র বিভীষিকার আকারে— তখনি সে অকল্যাণ যখনি তাহারে করি ভয়। যে জীবন বহিয়াছি পূর্ণ মূল্যে আজ হোক কেনা; দুর্দিনে নির্ভীক...
দ্বারে মৃত্যু, বনে বনে লেগেছে জোয়ার, পিছনে কি পথ নেই আর? আমাদের এই পলায়ন জেনেছে মরণ, অনুগামী ধূর্ত পিছে পিছে, প্রস্থানের চেষ্টা হল মিছে। দাবানল! ব্যর্থ হল শুষ্ক অশ্রুজল, বেনামী কৌশল জেনেছে যে আরণ্যক প্রাণী তাই শেষে নির...
মুখ ফিরায়ে রব তোমার পানে এই ইচ্ছাটি সফল কর প্রাণে। কেবল থাকা, কেবল চেয়ে থাকা, কেবল আমার মনটি তুলে রাখা, সকল ব্যথা সকল আকাঙ্ক্ষায় সকল দিনের কাজেরি মাঝখানে। নানা ইচ্ছা ধায় নানাদিক পানে, একটি ইচ্ছা সফল কর প্রাণে। সেই ইচ...
মাটিতে মিশিল মাটি, যাহা চিরন্তন রহিল প্রেমের স্বর্গে অন্তরের ধন। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
১২৯১ সালের শ্রাবণ মাস হইতে ১২৯৩ সালের মাঘ মাস পর্য্যন্ত ‘প্রচারে’ ধারাবাহিক ভাবে ‘সীতারাম’ প্রকাশিত হয়, মধ্যে কয়েক মাস বন্ধ ছিল। ১২৯৩ সালে ইহা প্রথম পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয়। ‘প্রচারে’ প্রকাশিত ‘সীতারামে’র সহিত ১ম সংস্...
শ্রী সন্ধ্যার পর জয়ন্তীকে নিভৃতে পাইয়া জিজ্ঞাসা করিল, “জয়ন্তী! সেই গোলন্দাজ কে?” জয়ন্তী। যাহাকে মহারাজ কাটিয়া ফেলিয়াছেন? শ্রী। হাঁ। তুমি মহারাজকে কাটিতে নিষেধ করিয়াছিলে কেন? জয়ন্তী। সন্ন্যাসিনীর জানিয়া কি হইবে?...
যোদ্ধৃগণ জয়ধ্বনি করিতে করিতে শ্রেণীবদ্ধ হইয়া, যথায় মঞ্চপার্শ্বে সীতারাম, জয়ন্তী ও শ্রীর মহাগীতি শুনিতেছিলেন, সেইখানে আসিয়া জয়ধ্বনি করিল। রঘুবীর মিশ্র জিজ্ঞাসা করিল, “মহারাজের কি হুকুম? আজ্ঞা পাইলে আমরা এই কয় জন নে...
পাঠককে বলিতে হইবে না যে, দুর্গমধ্যেই সিপাহীরা বাস করিত। ইহাও বলা গিয়াছে যে, সিপাহী সকলই দুর্গ ছাড়িয়া পলাইয়াছে, কেবল জন পঞ্চাশ নিতান্ত প্রভুভক্ত ব্রাহ্মণ ও রাজপুত পলায় নাই। তাহারা বাছা বাছা লোক—বাছা বাছা লোক নহিলে এম...
গঙ্গারাম গেল, রমা গেল, শ্রী গেল, জয়ন্তী গেল, চন্দ্রচূড় গেল, চাঁদশাহ গেল। তবু সীতারামের চৈতন্য নাই। বাকি মৃণ্ময় আর নন্দা। নন্দা এবার বড় রাগিল—আর পতিভক্তিতে রাগ থামে না। কিন্তু নন্দার আর সহায় নাই। এক মৃণ্ময় মাত্র সহা...
জয়ন্তী প্রসন্নমনে মহম্মদপুর হইতে নির্গত হইল। দুঃখ কিছুই নাই—মনে বড় সুখ। পথে চলিতে চলিতে মনে মনে ডাকিতে লাগিল—“জয় জগন্নাথ! তোমার দয়া অনন্ত। তোমার মহিমার পার নাই! তোমাকে যে না জানে, যে না ভাবে, সেই ভাবে বিপদ্! বিপদ্ কা...
Get the Kothakoli app
Free on Android