ঠাকুরদাদা ও নাতি
প্রবল-প্রতাপ রাজা ছত্রধর রায়, ছিলনা দয়ার লেশ, কৃপণের একশেষ, কেঁদে মরে দুঃখী প্রজা, বিচার না পায়। গিরি-উচ্চ অট্টালিকা, শত পুষ্পোদ্যান; সুনির্ম্মল সরোবর, শোভিতেছে মনোহর, চতুর্দ্দিকে স্তরে স্তরে প্রস্তর সোপান। নৃপতির বৃদ...
Share your poems|
Find readers who feel them. Earn from every read and every gift.
Publish poems, stories and essays in your own language. Line breaks stay exactly as you wrote them.
Readers react, comment, follow and share. Climb the weekly leaderboard.
Every unique read earns coins, and readers can send you gifts. Withdraw your earnings anytime.
প্রবল-প্রতাপ রাজা ছত্রধর রায়, ছিলনা দয়ার লেশ, কৃপণের একশেষ, কেঁদে মরে দুঃখী প্রজা, বিচার না পায়। গিরি-উচ্চ অট্টালিকা, শত পুষ্পোদ্যান; সুনির্ম্মল সরোবর, শোভিতেছে মনোহর, চতুর্দ্দিকে স্তরে স্তরে প্রস্তর সোপান। নৃপতির বৃদ...
রামদাস প্রতিদিন গিয়া পাঠশালে, পড়া হইতনা ব’লে, চড় খে’ত গালে। বিশেষতঃ ঠে’কে যে’ত কড়ায় গণ্ডায়, প্রমাদে পড়িত বড়, অঙ্কের ঘণ্টায়। নিত্য হারাইত তার অঙ্ক-কসা খাতা; অঙ্কের সময়, নিত্য ধরে তার মাথা। শিক্ষকেরে মাঝে মাঝে মি...
পরম বৈষ্ণব এক কৃষ্ণদাস নামে, বসতি করিত নবকৃষ্ণপুর গ্রামে। প্রতিদিন ন্যূন-কল্পে একটি অতিথি, ভোজন করা’ত, তার ছিল চির রীতি। অভুক্ত রহিত নিজে অতিথি না পে’লে, নিজে খে’ত, অতিথি আহার ক’রে গেলে। এই ব্যবহার তার ছিল আজীবন, ভ্রমেও...
গুরুগৃহে করি শাস্ত্রপাঠ সমাপন, বন্দিয়া বণিকপুত্র গুরুর চরণ। ধীরে ধীরে, সবিনয়ে কহে মৃদুভাষে, “অনুমতি হয় যদি যাই নিজ বাসে; কিন্তু এক ভিক্ষা আছে, চরণের দাস সামান্য দক্ষিণা দিতে করে অভিলাষ।” গুরু হাসি’ কহে, “বৎস দক্ষিণা ক...
পুরাকালে ছিল এক রাজার নন্দন, মহিষীর একমাত্র আনন্দবর্দ্ধন। অতি আদরের ছেলে, শিশুকাল হ’তে, অঙ্গঢে’লে দিয়েছিল বিলাসের স্রোতে। কখন ছিলনা কোন সুখের অভাব, যেমন ঐশ্বর্য্য তার, তেমনি প্রতাপ। একদা প্রত্যূষে, পরি মৃগয়ার সাজ, সৈন্...
হরিদত্ত নামে ধনী, নবগ্রামবাসী, গোশালা ও অশ্বশালা গড়ে পাশাপাশি। প্রত্যহ সায়াহ্নে সেই ধনীর নন্দন, অশ্বশালে অশ্ব আনি করিত বন্ধন। গোশালায় গাভী ছিল পরম যতনে, বসিয়া থাকিত সাঁঝে, রত রোমন্থনে। একনিশা দ্বিপ্রহরে অশ্ববর ধীরে,...
পূর্ণিমার সন্ধ্যাকালে চাঁদ উঠে পূবে, পশ্চিমের আকাশেতে সূর্য্য যায় ডুবে। উঁকি মেরে চাঁদ কয় সূর্য্য পানে চেয়ে, “ওগো সূয্যি মামা! কোথা চলিয়াছ ধেয়ে? এতক্ষণ জীবগণে পোড়াইয়া ধীরে, শরীরের জ্বালা বুঝি নিভাইতে নীরে, সাগরে ড...
তমসা নদীতীরে মহর্ষি অঙ্গিরার আশ্রম। (পদ্মাবতী এবং গৌতমীর প্রবেশ।) গৌত। বৎসে, তুমি এত অধীরা হইও না। তোমার প্রাণেশ্বর অতি ত্বরায়ই তোমার নিকটে আস্বেন, তার কোন সন্দেহ নাই। ভগবান্ অঙ্গিরা তোমার এ প্রতিকূল দৈব শান্তির নিমিত্...
পঞ্চমাঙ্ক প্রথম গর্ভাঙ্ক শক্রাবতারাভ্যন্তরে শচীতীর্থ। (শচীর প্রবেশ।) শচী। (স্বগত) আমি বসন্তকালে এই তীর্থের নির্ম্মল জলে গাত্র প্রক্ষালন করি, আর এই নিকুঞ্জে যে সকল ফুল ফোটে তা দিয়া কুন্তল সাজিয়ে দেবেন্দ্রের শয়নমন্দিরে...
বিদর্ভনগরস্থ রাজগৃহ। (রাজা ইন্দ্রনীল ম্লান ও মৌনভাবে আসীন, মন্ত্রী।) মন্ত্রী। (স্বগত) প্রায় সপ্তাহ হলো রাজ্ঞী পদ্মাবতী সখী বসুমতীর সহিত রাজপুরী পরিত্যাগ কর্যে যে কোথায় গেছেন তার কোন অনুসন্ধানই পাওয়া যাচ্যে না। (দীর্...
পর্ব্বতশিখরস্থ গহন কানন। (কলির প্রবেশ।) কলি। (স্বগত) এই ত হরণ করি আনিনু রাণীরে এ ঘোর কাননে। এবে কোথায় ইন্দ্রাণী? যে প্রতিজ্ঞা তাঁর কাছে করেছিনু আমি, রক্ষা করিয়াছি তাহা পরম কৌশলে,— (কলির কৌশল কভু হয় কি বিফল?) যাই এবে স...
চতুর্থাঙ্ক প্রথম গর্ভাঙ্ক বিদর্ভ নগর-তোরণ। (সারথিবেশে কলির প্রবেশ।) কলি। (স্বগত) আমি কলি; এ বিপুল বিশ্বে কে না কাঁপে শুনিয়া আমার নাম? সতত কুপথে গতি মোর। নলিনীরে সৃজেন বিধাতা— জলতলে বসি আমি মৃণাল তাহার হাসিয়া কণ্টকময় ক...
মাহেশ্বরীপুরী—দেবালয় উচ্চান। (পুরোহিত এবং কঞ্চুকীর প্রবেশ।) পুরো। আহা, কি আক্ষেপের বিষয়। মহাশয়, যেমন ভগবতী ভাগীরথীকে দর্শন কর্যে জগজ্জনগণ হিমাচলকে ধন্যবাদ করে, রাজদুহিতা পদ্মাবতীকে দেখে সকলেই আমাদের নরপতিকে তদ্রূপ পর...
তৃতীয়াঙ্ক প্রথম গর্ভাঙ্ক মাহেশ্বরীপুরী—রাজনিকেতন-সন্নিধানে মদনোদ্যান। (ছদ্মবেশে রাজা ইন্দ্রনীল এবং বিদূষকের প্রবেশ।) রাজা। সখে মানবক! বিদূ। মহারাজ— রাজা। আরে ও আবার কি? আমি একজন বণিক্; তুমি আমার মিত্র; আমরা দুজনে এই মাহ...
মাহেশ্বরীপুরী—রাজনিকেতন। (কঞ্চুকীর প্রবেশ।) কঞ্চু। (স্বগত) আহা! শৈলেন্দ্রের গলে শোভে যে রতন— সে অমূল ধন কভু সহজে কি তিনি প্রদান করেন পরে? গজরাজ-শিরে ফলে যে মুকুতারাজি, কে লভয়ে কবে সে মুকুতারাজি, যদি না বিদরে আগে সে শিরঃ...
দ্বিতীয়াঙ্ক প্রথম গর্ভাঙ্ক মাহেশ্বরীপুরী—রাজশুদ্ধান্তসংক্রান্ত উদ্যান। (পদ্মাবতী এবং সখীর প্রবেশ।) পদ্মা। (আকাশে দৃষ্টিপাত করিয়া) সখি, সূর্য্যদেব অস্তে গেছেন বটে, কিন্তু এখনও একটু রৌদ্র আছে। সখী। প্রিয়সখি, তবুও দেখ, ঐ...
সারাদিন কাটাইয়া সিংহাসন-’পরে সন্ধ্যায় পশিলা রাম শয়নের ঘরে। শয্যার আধেক অংশ শূন্য বহুকাল, তারি ’পরে রাখিলেন পরিশ্রান্ত ভাল। দেবশূন্য দেবালয়ে ভক্তের মতন বসিলেন ভূমি-’পরে সজল নয়ন; কহিলেন নতজানু কাতর নিশ্বাসে, ‘যতদিন দী...
বসি বছরের পয়লা তারিখে মনের খাতায় রাখিলাম লিখে— ‘সহজে উদরে ঢকিবে যেটুক, সেইটকু খাব, হব না পেটুক।’ মাস দুই যেতে খাতা খুলে দেখি এরি মাঝে মন লিখিয়াছে এ কি! লিখিয়াছে, যদি নেমন্তন্নে কেঁদে ওঠে প্রাণ লুচির জন্যে, উচিত হবে ক...
হোক না কেন যতই কালো, এমন ছায়া নাই রে নাই— লাগলে পরে রোদের আলো। পালায় না যে আপনি ভাই! শুষ্ক মুখে আঁধার ধোঁয়া কঠিন হেন কোথায় বল, লাগলে যাতে হাসির ছোঁয়া আপনি গলে হয় না জল? সন্দেশ-১৩২৭
Get the Kothakoli app
Free on Android