অক্ষয় মার্জিত
একলা পথের পথিক আমি
রাত তখন গভীর। চারদিক নিস্তব্ধ, যেন পুরো শহর একটা শান্ত ঘুমে আচ্ছন্ন। আমি আমার টেবিলে বসে আছি। সামনের স্ক্রিনের নীলচে আলোটা শুধু আমার মুখে এসে পড়ছে। হ্যাঁ, আমি একলা পথের পথিক।
পাশের ঘরে একটু উঁকি দিলেই দেখতে পাই, আমার স্ত্রী আর ছোট্ট মেয়েটা নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে। ওদের ওই শান্ত মুখটাই আমার এই একলা চলার সবচেয়ে বড় জ্বালানি। আমার এই পথটা কোনো চেনা, মসৃণ রাজপথ নয়। আমি এমন একটা রাস্তা তৈরি করছি, যা আগে কখনো ছিল না। কখনো কখনো মনে হয়, চারপাশের অনেকেই যখন সহজ আর বাঁধা ধরা জীবন বেছে নিয়েছে, তখন আমি কেন রাতের পর রাত জেগে এই কঠিন পথটা পার করছি?
কিন্তু এই একাকীত্বের মাঝে একটা অদ্ভুত সৃষ্টির আনন্দ আছে। একটা নতুন কাঠামো দাঁড় করানো, শূন্য থেকে কোনো স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া—এসব তো আর ভিড়ের মাঝে হয় না। এর জন্য একলাই লড়তে হয়। যখন দীর্ঘ পরিশ্রমের পর চোখের সামনে একটা জটিল সমস্যার সমাধান হয়, কিংবা নিজের হাতে গড়া কোনো কাজ একটু একটু করে প্রাণ পায়, তখন মনে হয় এই নির্ঘুম রাতগুলো সার্থক।
ভোরের প্রথম আলো যখন জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢোকে, তখন একলা পথের এই ক্লান্তি আর থাকে না। আমি জানি, আজ আমি যে পথে একা হাঁটছি, যে ভিতটা আমি একা হাতে তৈরি করছি, কাল তা অনেক মানুষের কাজে লাগবে। আর আমার ওই ছোট্ট মেয়েটা একদিন বড় হয়ে বুঝবে, ওর বাবা নিজের রাস্তাটা নিজেই তৈরি করে নিয়েছিল।
মন্তব্য ও পছন্দ করতে লগইন করুন।
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!