জ্যোৎস্নায়
আমার পরাণ উথলিছে আজি না জানি কিসের হরষে! সারা তনুখানি উঠিছে শিহরি’ অজানা এ কার পরশে! কলঙ্কী চাঁদ হাসিয়া, আমায় ঘরের বাহির করিবারে চায়, দেবতার প্রিয় সুধা সে আমারি অঙ্গ প্লাবিয়া বরষে!
আমার পরাণ উথলিছে আজি না জানি কিসের হরষে! সারা তনুখানি উঠিছে শিহরি’ অজানা এ কার পরশে! কলঙ্কী চাঁদ হাসিয়া, আমায় ঘরের বাহির করিবারে চায়, দেবতার প্রিয় সুধা সে আমারি অঙ্গ প্লাবিয়া বরষে!
যায় যে ব’য়ে ফাগুন-রাতি, কই গো রাজবালা! আমায় নিয়ে গাঁথবে না। আর স্বয়ম্বরের মালা? রসে ভরা ফলের মতন নিটোল সোনা ফুল,— ধূলায় শেষে ঝরব? হব’ ধূলার সমতুল? ফলের পরিপূর্ণ ছাঁদে শোভন আমার কায়, সফল করি সোনার স্বপন, ভুলছ কি তা...
আয় সখী, তোরে শিখাই আদরে ভালবাসাবাসি খেলা! কাছাকাছি এসে অকারণে হেসে শেষে ভালবেসে ফেলা! না চাহিতে-পাওয়া ধন সে, স্বজনি, ভালবাসা তার নাম, যে তারে জেনেছে হৃদয়ে টেনেছে নাহি তার বিশ্রাম! আকাশের বুকে ফাঁদ পেতে সুখে চাঁদ নিয়ে...
ফাল্গুনী হাওয়া কখন্ এলে গো ফাগুন বাতাস ওগো চির-সুমধুর! কখন্ রিক্ত লতারে পরায়ে দিলে এ রতন-চূর! পথে প্রান্তরে ঝল্মল্ করে ফুলকাটা কিঙ্খাব, আমের মুকুলে অশোকে বকুলে তোমারি আবির্ভাব! পান্না চুনীর কণ্ঠী পরেছে টিয়া আর চন...
ফুলের বনে ফুলের দিনে আমরা রাজা আমরা রাণী! মন কেড়ে নিই নানান্ ছলে আইন কানুন্ নাহি মানি। আপন হাতে শাসন করি, বসি’ ফুলের আসন ‘পরি চন্দ্রালোকের চাঁদোয়া-তলে আমরা সবায় মিলাই আনি'! পাখীর গানে গেয়ে উঠি, ফুলের সনে আমরা ফুটি,...
ফাগুন এল দ্বারে, কেহ যে ঘরে নাই— পরান ডাকে কারে ভাবিয়া নাহি পাই। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
কোন্ খ’সে-পড়া তারা মোর প্রাণে এসে খুলে দিল আজি সুরের অশ্রুধারা। — স্ফুলিঙ্গ (1945)